5 months ago - Translate

আজ উপমার বিয়ে। উপমা দেবার মত করে সাজানো হয়েছে উপমাদের বাড়ি। চারদিকে মরিচ বাতির প্রদশনী চলছে। ধূম করে লালটা জ্বলে তো নীলটা নিভে যায়। উপমার আশার মত। যদিও বরের বাড়ি থেকে উপমার জন্য একটা লাল টুকটুক শাড়ি এসেছিল। উপমা লাল টুকটুক শাড়িটা পরেনি। সে পরেছে হালকা নীল রঙের একটা শাড়ি। তাকে দেখতে এখন,হাওয়ায় দোল খাওয়া নীল প্রজাপতির মত লাগছে।

বিয়ের দিন কনের চেহারার মধ্যে একটু বিষাদ বিষাদ ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়। কিন্তু উপমার চেহারায় বিষাদের কোন রেখা নেই। সে নীল প্রজাপতির মতই সারা বাড়িতে উড়ে বেড়াচ্ছে। উপমার এই উড়ন্ত মুগ্ধমূর্তি বাড়িতে আমন্ত্রিত বয়স্কা অতিথিদের কারও কারও চোখে অশ্লীল ঠেকছে। তারা মনে মনে ভাবছে,মেয়েটা একদম নির্লজ্জ। বিয়ের দিন এভাবে কেউ নেচে বেড়ায়!

উপমার নিরব নামে পুচকি ভাইটাও উড়ছে। উপমা যে তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে এই ব্যাথাটা এখনও তার মনের ভেতর বেজে ওঠার ফুরসৎ পায়নি। সে বিয়ের আনন্দে মেতে আছে। উচ্চ ভলিউমে হিন্দি গান ছেড়ে দিয়েছে..
"দিলপে পাত্থর রাক্কেমুপে মেকাপ করলিয়া,মেরে সাইয়াজিছে আজ মেনে ব্যাকআপ করলিয়া।"

হিন্দি গানে উপমার ভীষণ এলার্জি। গান কানে ঢুকতেই সে উড়তে উড়তে নিরবের রুমে এসে হাজির হল। রুমে ঢুকতেই আবিরের চোখে চোখ পড়ল তার। আবির উপমার দূর সম্পর্কের কাজিন। উপমা'দের বাড়িতে থেকেই পড়াশুনা করছে। দু’জনই বিবিএ পড়ছে কা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। এবারই ফাইনাল ইয়ার শেষ হবে।

আবির যে নিরবের রুমেই আছে এটা অবশ্য উপমা জানত। চোখ দ্রুত সরিয়ে নিয়ে নিরবের মাথায় টুক করে একটা টোকা মেরে বলল..
-অ্যাই বান্দর হিন্দি গান বন্ধ করে রবীন্দ্রসঙ্গীত চালু কর।

নিরব বিরক্ত হয়ে বলল..
-কি আপু সারাক্ষন শুধু রবীন্দ্র সঙ্গীত রবীন্দ্র সঙ্গীত কর। বিয়ের দিন কেউ কখনও রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজায়। মিনমিন সুরে বাজবে। এগুলো কারও কানেই ঢুকবে না।

উপমা উত্তরে কিছু বলল না। নিরবের মাথায় পূর্বের চেয়ে একটু স্বাস্থ্যবান শব্দে টোকা মেরে নিজেই হিন্দি গানের লাগাম টেনে ধরল। হিন্দির তিরোধানে এবার রবীন্দ্রসঙ্গীত সরব হয়ে উঠল মৃদুমধুর মন্দ্রে...
-তুমি মোর পাও নাই,পাও নাই পরিচয়।

উপমা যেন আবিরকে তার মনের কথা বিশেষ ভাবে জানানোর জন্যই ইচ্ছে করে রবীন্দ্রনাথের এই গানের শরণাপন্ন হল। আবিরের সাথে তার সম্পর্কটা বেশ ছিল। কিন্তু মাঝখানে প্রেমের হাওয়া ঢুকে সেটা কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে। দু’ মাস আগের কথা।

উপমা একদিন ক্যাম্পাসে আবিরকে আড়ালে ডেকে বলল..
-আমার বিয়ের জন্য বাড়িতে যে খুব তোড়জোড় চলছে সেটা কি বুঝতে পারছিস?

আবির নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল..
- হ্যাঁ পারছি। কেন তুই কি বিয়ে করতে চাস না?

-হ্যাঁ চাই। তবে বিয়েটা আমি অন্য কাউকে না তোকেই করতে চাই।

কথাটা বলেই উপমা দ্রুত চলে গেল। আবিরও যে তাকে ভেতরে ভেতরে ভালবাসে এই ব্যাপারটা তার কাছে দিনের আলোর মতই সত্য মনে হত। কিন্তু সত্য জিনিসটাও পরম নয়। একজনের কাছে যা সত্য মূর্তিরূপে ধরা দেয় অন্য জনের কাছে তা সেই রূপে ধরা দেয় না। আবিরের কাছ থেকে কোন সাড়া শব্দই পাওয়া গেল না। উপমা আবিরের এই নির্লিপ্ততায় রাগ,অভিমান আর অপমানে সংকুচিত হয়ে তার সাথে একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলতে লাগল। বেচারা আবির তার ওপর এই অবিচারের কোন প্রতিবাদ করতে পারল না।

আবিরকে ছাড়া উপমা যে খুব সুখে থাকবে না। এই ব্যাপারটা তাকে জানানোর জন্যই এতদিন বিয়েতে রাজী না হলেও এবার তার মা যখন বিয়ের কথা তুলল,তখন সে কোন প্রতিবাদ ছাড়াই দ্রুত রাজী হয়ে গেল এবং আজ বিয়ের দিন সেটাই আরও জোরেশোরে প্রমান করার জন্য,সে ইচ্ছে করে চেহারার মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি আনন্দের ভাব ফুটিয়ে তুলে সারা বাড়ি মাথায় তুলে রাখল। কিন্তু তার মনের ভেতর এদিকে যে বিপরীত ভাবাবেগের স্রোত বইছে সেটার সাথে লড়াই করতে করতে একই সাথে কেমন ক্লান্ত হয়ে পড়তে লাগল ভেতরে ভেতরে।

আবির যে শেষমেশ তাকে হারানোর ব্যাথায় কাতর হয়ে তাকে বিয়ে থেকে ফেরাবে এমন একটা ক্ষীণ বিশ্বাস তার মনের ভেতর আন্দোলিত হতে লাগল এখনও। কিন্তু সময় ধীরে ধীরে ফুরিয়ে এলেও আবিরের সীমাহীন নির্লিপ্ততা কাটার কোন লক্ষণ যখন সে দেখতে পেল না,তখন তার ভেতরের বেদনাবোধের বাঁধটা ভেঙ্গে গেল। একলা ঘরের ভেতরে ঢুকে বেশ কিছু সময় দরজা বন্ধ করে রাখল। নির্জন একলা রুমে তার ভেতরের সেই বেদনাবোধ কাঁন্নার জল হয়ে ঝরতে লাগল বেশ কিছু সময়। প্রায় আধাঘণ্টা পর যখন সে রুম থেকে বের হল নিরবের ঘরে তখন রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে.. -কাঁদালে তুমি মোরে,ভালবাসারই ঘায়ে।

উপমা ভেবে ছিল নিরব হয়ত তার রুম থেকে বের হওয়ার পরই গান পরিবর্তন করে দেবে। দীর্ঘ সময় ধরে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার ধৈর্য যে তার নেই এটা সে ভাল ভাবেই জানে। আবিরই যে তাকে গান পরিবর্তন করতে দেয়নি এটা তার বুঝতে আর বাকি রইল না। উপমা মনে মনে নিরবের রুমে যাওয়ার উপলক্ষ খুঁজতে লাগল। রবীন্দ্রসঙ্গীত বন্ধ হলে সেই উপলক্ষে খুব সহজেই যাওয়া যেত। কিন্তু রবীন্দ্রসঙ্গীত চলতে থাকায় অন্য কোন উপলক্ষ তার মনের মধ্যে সহজে উদয় হল না। উপলক্ষের জন্য এদিকে ধৈর্য ধারণ করা তার জন্য কষ্ট কর হয়ে উঠল। শেষমেশ উপমা উপলক্ষহীন ভাবে নিরবের রুমে এসে হানা দিল আবার। নিরব উপমাকে দেখে বিস্মিত হয়ে বলল..
-আপু রবীন্দ্রসঙ্গীত চলছে তো।

উপমা বলল..
-জানি। তুই রুম থেকে বের হ এখন।

নিরব কোন প্রতিবাদ না করে বের হয়ে গেল তৎক্ষণাৎ। উপমা আবিরের দিকে তাকিয়ে বলল...
-আবির তুই এভাবে আমাকে দুঃখ দিলি কেন?

আবির অশ্রু ছলছল চোখে বলল..
তোকে শুধু দুঃখ না সাথে মুক্তিও দিলাম। আর এই মুক্তি দুঃখের চেয়ে বড়। রবীন্দ্রনাথ কি বলে ছিলেন,দুঃখের ভেতর দিয়ে যে মুক্তি আসে তা দুঃখের চেয়ে বড়।

-এই মুক্তি তো আমি চাইনি ?

-কিন্তু তোকে তো বন্দিও আমি করতে পারব না।

-তুই কি আমাকে ভালবেসে ছিলি কখনও?

-এই প্রশ্নটা আজকের দিনের জন্য অনুকূল নয়।

উপমার মুখে একটা কাঠিন্যের ভাব ফুটে উঠল। সে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিয়ে রুম থেকে বের হতেই দরজায় তার বাবার মুখোমুখি পড়ে গেল। উপমা তার বাবার চোখে চোখ রাখার সাহস পেল না,যদি উপমার বাবা,উপমার অশ্রুতে ভেজা নরম গাল দেখে সব বুঝতে পারেন।

উপমার বাবা অবশ্য সব বুঝেই ফেলেছেন। দরজায় দাঁড়িয়ে ওদের দু’জনের কথোপকথন শুনছিলও তিনি। উপমার মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে বললেন..
-মা,এখনও সময় আছে। বিয়েটা কি ভেঙ্গে দেব?

উপমা দৃঢ় ভাবে বলল..
-না বাবা,এখন আর তার দরকার নেই।

নিরবের ঘর থেকে বেজে চলছে রবীন্দ্রসংগীত।
-আমারও পরাণও যাহা চায়,তুমি তাই...

আজ রবীঠাকুর থাকলে হয়ত আবার নতুন করে লিখতেন..
-আমারও পরাণও যাহা চায়,তুমি তাই।
কেঁদে কেঁদে কেন তোমায় না পাই।

5 months ago - Translate

^__^গল্প অবহেলা ^__^

__যখন অবহেলা পাই__
__তখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠি___
==খুব বেশী সাহসী কিংবা
বেহিসাবি একজন___
অবহেলাগুলো গিলতে থাকি
লেবুজলের মতো।

নেশাধরা রোদ্দুরের মায়া
তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে।

আমার অবহেলায় সে-ও
কুঁকড়ে যায়, লজ্জ্বায় আর
তীব্র অভিমানে!

==রাত্রির বাঁধভাঙা জোছনা===
===বেহায়ার মতো হাসতে থাকে___

___ঠুকতে থাকে অবহেলার জীবন___
___এভাবেই ভিড়তে থাকে সব___
__মনের গভীরে সিঁদুরে রঙ___
==জমতে থাকে ক্রমশ___

<<<<একদিন মেঘের দেশে
কষ্টগুলো লাউয়ের মাচায়
বেড়ে উঠবে তরতরিয়ে।
তারই কিছু কচিডগা
নেমে আসবে শ্রাবণ হয়ে
অবহেলার শহরে>>>>

<<<সেদিন তুমিও ভিজবে
এই সাহসী'র মতো>>>

<<<অবহেলার চাদরে ফোটাবে
ব্যথার নীরব প্রকাশ>>>>

5 months ago - Translate

স্বামী
পর্ব-১
লেখা :নিরযানা আনাম
-বারবার ব্যাথায় কুকিয়ে ওঠছে অনু।ধবধবে সাদা বিছানার চাদরে ছোপ ছোপ রক্ত লেগে গেছে। কিন্তু তাতে বিন্দু মাত্র ভুরুক্ষেপ দেখাচ্ছে না নির্ঝর।সে তার নিজের কাজে ব্যাস্ত।
নির্ঝরের প্রত্যেকটা স্পর্শে কেবল রাগ আর ক্ষোভ মিশে রয়েছে।একটুও ভালোবাসা নেই।
অসহ্য যন্ত্রনা মুখ বুজে সহ্য করছে অনু।
অনুর চোখ দিয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ছে।আজই নির্ঝরের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়েছে অনুর।
অনুর বাবা মা বেশ বেছে বেছে একমাত্র মেেয়র জন্য পছন্দ করেছে নির্ঝরকে।তারপর ধুমধাম করে বিয়েটা সম্পূর্ন হয়েছে।
বিয়ের প্রথম রাতেই স্বামীর এমন ভয়ংকর রূপ কিছুতেই মানতে পারছে না অনু।বড্ড কষ্ট হচ্ছে।বড্ড বেশি
রাতের প্রায় শেষের দিকে নির্ঝর ক্লান্ত হয়ে অনুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়েছে।
কিন্তু অনুর চোখে ঘুম নেই।স্মৃতির আঙ্গিনায় বার বার উকি মারছে কেউ একজন।
নিজেকে নির্ঝরের বাহুবন্ধন থেকে মুক্ত করে কোনো রকমে একটা ওড়না পেচিয়ে বাথরুমে চলে যায় অনু।
শাওয়ারটা ছেড়ে দিয়ে ইচ্ছে মতো কান্না করতে থাকে।
যদি না সায়ন অনুকে এভাবে একা ফেলে চলে যেত তাহলে নির্ঝর নামের এই মানুষটা কখনোই তার জীবনে আসতো না। আর না কখনো এভাবে নিজের স্বামীর কাছে....।
কথাগুলো ভাবতেই অনুর দুচোখ ভিজে ওঠে।।।
অনু কোনো রকমে সাওয়ারটা শেষ করে ওযু করে বেরিয়ে আসে।
বিছানার দিকে চোখ পড়তেই দেখে নির্ঝর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
গায়ে কাথাটা টেনে দিয়ে জায়নামাজ আর কোরআন শরীফটা বুকে নিয়ে ঘরের এককোনে চলে যায়।প্রথমে কয়েকপাতা কোরআন পড়তেই বাহিরে আজানের ধব্বনি কানে আসে।তারপর নামাজ
অনু নামাজ শেষ করে পাশ ফিরতেই চোখ যায় তার ঠিক পাশেই সাদা ধবধবে পান্জাবী পরে নামাজে বসেছেন তার স্বামী নির্ঝর।
এতোক্ষন নামাজে এতো মগ্ন ছিলো যে পাশে কেউ আছে সেদিকে খেয়ালই ছিলো না।
নামাজ শেষ করে অনু ওঠে দাড়াতেই নির্ঝরও ওঠে দাড়ায়।
তারপর অনুকে একটানে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। কাছে টেনে এনে কপাঁলে একটা চুমু এঁকে দেয়।
তারপর ধপ করে ছোফায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।
ঘটনাটা আকষ্মিকভাবে ঘটায় সবই অনুর মাথায় উপর দিয়ে যায়।
:::কই এই ছোয়াই তো কোনো ঘেন্না নেই যা আছে তা হলো ভালোবাসা।
তহলে রাতের ছোয়াই কি ছিলো??
অনু অবাক হয়ে অপলক তাকিয়ে আছে নির্ঝরের দিকে।সে সোফায় একটা বালিস জড়িয়ে চোখ বন্ধ করে আছে।
কি নিষ্পাপ মুখটা।বিয়ে থেকে শুরু করে এতোটা সময় নির্ঝরের সাথে থাকলেও লোকটাকে ভালো করে দেখা হয়নি অনুর।
"আসলে হৃদয়ের মাঝে কেউ লুকিয়ে থাকলে কি আর কারো দিকে চোখ যায়"
হটাৎই অনুর চোখ যায় বিছানার দিকে।বিছানার বেশ কিছু জায়গায় রক্তের দাগ স্পষ্ট
অনুর চোখ আবার জলে ভিজে যায়......
এরকম একটা লোকের সাথেই তাকে কাটাতে হবে জীবনের বাকি রাতগুলো।
চলবে......
(জানিনা গল্পটা কেমন হয়েছে।ভালো লাগলে জানাবেন

5 months ago - Translate

টক মিষ্টি ভালবাসার
লেখকঃ হৃদয় হাসান ফারুক
কই তুমি? “( নিধি) দুই ঘণ্টা ধরে বসিয়ে রেখে এখন বলো কই তুমি? “(অভ্র) ” আরেকটু অপেক্ষা করো। আমি হালকা কাপড়চোপড় খেয়ে ভাত গায়ে দিয়ে রওনা দিচ্ছি। বলেই নিধি ফোন কেটে দিলো। যার সাথে বললাম ও হল নিধি। মেয়ে ভালো শুধু মাথায় কিঞ্চিৎ সমস্যা। কিছুক্ষণ একা একা বসে বাদাম খাওয়ার পর আবার ওর ফোন। কই তুমি? আমার কিন্তু মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। রাগ করো না প্লীজ। দেখো না মাথায় প্রচুর জ্যাম সেজন্য রাস্তা ব্যাথা হয়ে গেছে। ” ধুর, আমার সময়ের কোনো দাম নাই তোমার কাছে? ” আছে তো, আচ্ছা তুমি এখন কী করছো? ” বাদাম খাই আর গল্প লিখছি ” আচ্ছা তাহলে গল্পগুলো খেয়ে বাদম টাপোস্ট করে দাও। এরই মধ্যে আমি পৌঁছে যাবো।



বলে আবার ফোন টা রেখে দিলো। তারপর আর বেশিক্ষণ দেরি হলো না। ও আমার পাশে এসে বসলো। আমি সরে গেলাম। ও মুখ গোমরা করে আমার সামনে গিয়ে। রাগ করছো? তুমি বললে আমি উঠবস ধরে কান করতে পারি। ” আগে বলো তুমি কী আমাকে মানুষ মনে করো না? আল্লাহ্ চেঁচাচ্ছ কেনো? শুনো না, হঠাৎ আমাদের বাড়িতে দেরি এলো সেজন্য মেহমান হয়ে গেলো আমার। এই দেখো এমন ধরছি আর কানে হবে না পরবর্তীতে। ওর কথা শুনে আর রাগ করে থাকতে পারলাম না। এখন আমাকে টাকা দাও। প্রতি ঘণ্টার মূল্য এক হাজার টাকা। তুমি আমাকে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রেখেছো। কী বলো এসব? কিন্তু আমার কাছে তো এতো টাকা নেই। এক হাজার টাকা আছে ভাবছি একটা থ্রী-পিচ কিনবো তোমাকে নিয়ে আজকে। দিবা কী না বলো? নাহলে কিন্তু আমি গেলাম।



এই দাঁড়াও না। তুমিই তো আমার সবচেয়ে বড় থ্রী-পিচ। এই নাও, একটাই এক হাজার টাকার নোট। ফিরে যাওয়ার ভাড়া টা তুমি দিয়ো। আমি ওর থেকে অনেক টাকা নিয়েছি। এবং কবে কোনদিন কত টাকা নিয়েছি তা হিসাব ও করে রেখেছি। টাকা হাতে নিয়ে বললাম। কী বললা তুমি? আমি থ্রী-পিচ? ” আল্লাহ আমি যে কী বলতে কী বলে ফেলি। বলতে চাচ্ছি থ্রী-পিচ আমার সব। তুমি আমার কিচ্ছু না। নিধি…! আবার কিছু বলে ফেললাম না কী? আমি তোমার কিচ্ছু না? ” নিধি এবার চুপ করে বসে থাকলো। কারণ ও জানে যা বলবে তার উল্টো হয়ে যাবে। অনেকক্ষণ পরে বললো। দেখো না খালি আবোলতাবোল থেকে মুখ বেরিয়ে যাচ্ছে! আমি হো হো করে না হেসে পারলাম না। ওকে আমার এজন্যই এতো ভালো লাগে। আমার যতই মন খারাপ থাকুক ওর সাথে কথা বললেই ভালো হয়ে যায়। আমি এবার প্রেমিক হয়ে ওর পাশে গিয়ে বসলাম। ও অবলার মতো আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

About

ভালোবাসার নিত্যনতুন গল্প পাওয়া যাবে এই গ্রুপে। তাই এনকাম করার পাশাপাশি ভালোবাসার গল্প পড়ুন। ধন্যবাদ #SRSADI