Right WaY Cover Image
Right WaY Profile Picture
Right WaY
@rightway
103 people like this
5 months ago - Translate

আসসালামু আলাইকুম। আপনি কি সত্যের পথে আছেন? আপনি কি সঠিক পথে আছেন? কোনটা সঠিক পথ জানেন কি? আল্লাহর নির্দেশিত পথ হচ্ছে সঠিক পথ, রাসূল (সাঃ) এর দেখানো পথ হচ্ছে সঠিক পথ। এ পথ সত্যের, এ পথ ন্যায়ের। এ পথ শেখায় এক আল্লাহর ইবাদত করতে, তাঁর আনুগত্য করতে, তাঁকে ভালবাসতে। মানুষকে বিপদে সাহায্য করতে, আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালবাসতে , মানুষের জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করতে। বিপদে-আপদে ধৈর্য ধারণ করতে। জীবনের প্রতিটি বিষয়ের বিধান দেওয়া আছে এ পথে।
দুনিয়া একটা পরীক্ষা ক্ষেত্র। সকল কাজের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে মৃত্যুর পরের জীবনে। মৃত্যুর পর একদিন আসবে যে দিন হবে শেষ বিচার। শেষ বিচার দিনের জন্য প্রস্তুত হোন। আল্লাহর নির্দেশিত পথে থাকুন। সত্যের পথে থাকুন, ন্যায়ের পথে থাকুন।

1 month ago - Translate

এসে গেলো নতুন Learning & earning App!
অ্যাপটিতে বিভিন্ন বিষয় যেমন: বাংলা,ইংরেজী, গণিত,বিজ্ঞান, ওয়েব ডিজাইন,মাইক্রোসফট ওয়ার্ড,এক্সেল,পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি বিষয়ের শিক্ষণীয় ভিডিও পাবেন।একটি ভিডিও অন করলেই পাবেন 1 কয়েন। ভিপিএন অন করে লোকেশন USA,Australia, Canada, New zealand অথবা ইউরোপের যে কোনো দেশ সিলেক্ট করে কানেক্ট করে অ্যাপে ঢুকে একটি ভিডিও 10 সেকেন্ড করে দেখলে প্রতি ভিডিতে পাবেন 2 পয়েন্ট।
আর ভিডিও 3মিনিট ধরে দেখলে আরো 1 পয়েন্ট বেশি পাবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ 50 টি ভিডিও দেখে পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন।এখন, 200পয়েন্ট = 10টাকা। পেমেন্ট ফ্লেক্সিলোড বা বিকাশে নিতে পারবেন। ফ্লেক্সিলোড নিতে সর্বনিম্ন 10 টাকা এবং বিকাশে নিতে সর্বনিম্ন 50 টাকা হতে হবে।
একটি ফোন থেকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে।
অ্যাপ লিংক:
https://play.google.com/store/....apps/details?id=com.
যে কোনো সমস্যায় অ্যাপের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে ও অ্যাপের যে কোনো তথ্য পেতে তাদের ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন। ফেসবুক গ্রুপ লিংক:
https://www.facebook.com/groups/593241764899757/
অ্যাপটি ডাউনলোড করে অ্যাপে ঢুকে আপনার ফোন নম্বর দিন।ফোন নম্বরে
একটি কোড যাবে সেটি দিন। তারপর রেজিস্ট্রিশন করুন।রেফার কোডে 10fP07 দিন। ভিডিও দেখুন, শিখুন ও টাকা আয় করন।

image
4 months ago - Translate

করোনাকালের রোজা:
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এ বছরের পবিত্র রমজান মাস একেবারেই ব্যতিক্রম। করোনা ঠেকাতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এরই মধ্যে জীবনাচরণে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। রোজায়ও তা অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সম্প্রতি একটি বিশেষ বুলেটিন বা নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। আসুন, জেনে নিই রোজায় জীবনাচরণের বিষয়ে তাদের পরামর্শ কী।

১. করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য বেশির ভাগ মুসলিম দেশেই মসজিদে তারাবিহর নামাজ না পড়তে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। আমাদের দেশেও মুসল্লিদের প্রতি বাড়িতে তারাবিহ পড়তে অনুরোধ করা হয়েছে। বাড়িতে জামাতে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।


২. কারও জ্বর-কাশি, ডায়রিয়া বা ফ্লুর উপসর্গ থাকলে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি যেমন বয়স্ক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের রোগ আছে এমন ব্যক্তিরা মসজিদে যাবেন না। মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে, অজুর জায়গায় যেন ভিড় না হয়, সবাই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩. মুসলমানরা যে পদ্ধতিতে দিনে পাঁচবার অজু করেন, তা স্বাস্থ্যসম্মত বলেই আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে মসজিদে ও বাড়িতে অজুর জায়গায় যথেষ্ট পানির প্রবাহ, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া টিস্যু এবং তা ফেলতে ঢাকনাযুক্ত বিন রাখতে হবে। প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত জায়নামাজ ব্যবহার করবেন। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলবেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ দিনে কয়েকবার মসজিদের মেঝে, অজুর জায়গা, বাথরুম জীবাণুমুক্ত করবেন। দরজার হাতল, সিঁড়ির রেলিং, পানির কল, লাইট ফ্যানের সুইচ বারবার জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এগুলো যথাসম্ভব স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব ক্ষেত্রেই নাক–মুখ–চোখ স্পর্শ করা এড়াতে হবে।

৪. সুস্থ থাকলে যে কেউ রোজা করতে পারবেন। তবে যথেষ্ট পুষ্টিকর ও ভিটামিন খনিজযুক্ত খাবার খেতে হবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে। বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন না। ধূমপান করবেন না। বাড়িতে সন্ধ্যার পর হালকা হাঁটাহাটিঁ বা ব্যায়াম করবেন।

৫. জাকাত বা সদকার ব্যাপারে গণজমায়েত করা যাবে না। ইফতার বিতরণ বা ইফতার অনুষ্ঠানের ব্যাপারেও সাবধানতা অবলম্বন করুন। রোজায় সাধারণত বাইরে, মার্কেটে, কাঁচাবাজারে ভিড় হয়। এগুলোও এড়িয়ে চলুন।

ডা. তানজিনা হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ

4 months ago - Translate

Ramadan Mubarak. May Allah forgive us and guide us the right way.

4 months ago - Translate

পরীক্ষামূলক ওষুধ তৈরি হচ্ছে দেশেই:
করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কোভিড-১৯) এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো ওষুধ নেই। তবে থেমে নেই চিকিৎসক ও গবেষকেরা। ধনী-গরিব—সব দেশ হন্যে হয়ে করোনার ওষুধ খুঁজছে। নিরন্তর গবেষণা হচ্ছে কার্যকর ওষুধ তৈরির জন্য। পরীক্ষামূলক ওষুধ তৈরিও হচ্ছে।

এ থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোও। এদের মধ্যে আছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ইত্যাদি। ঔষধ প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস জনিত রোগের চিকিৎসায় যেসব ওষুধ পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেসব ওষুধই তৈরি করছে দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো। জানা গেছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশীয় কোম্পানিগুলোকে বেশ কয়েকটি ওষুধ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর কোভিড-১৯ বেশ কিছু ওষুধ তাদের নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

করোনাভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক ওষুধ নিয়ে কাজ করছে দেশের প্রতিষ্ঠিত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস। এ ব্যাপারে এসকেএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের জনগণের জন্য কার্যকরী ওষুধ সরবরাহ রাখতে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন এবং বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সঙ্গে কাজ করে আসছি। ইতিমধ্যে আমরা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন প্রস্তুত করেছি। অতিসত্বর আমরা ফ্যাভিপিরাভির, ওসেল্টামিভির ও ইভারমেকটিন প্রস্তুত করতে যাচ্ছি। আমরা চাই, উন্নত বিশ্বে যেসব ওষুধ কোভিড-১৯-এর চিকিৎসায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হবে, তার সব কটি এ দেশের মানুষের জন্য এসকেএফ প্রস্তুত করবে।’

জানা গেছে, ফ্যাভিপিরাভির ওষুধটি জাপানি কোম্পানি ফুজির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তোয়ামা কেমিক্যাল তৈরি করেছিল ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসার জন্য। গত শনিবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ন্যাশনাল সেন্টার ফল বায়োটেকনোলজি ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ঝ্যাং জিনমিন বলেছেন, দেশটির দুটি মেডিকেল ইনস্টিটিউশন ফ্যাভিপিরাভির প্রয়োগ করে দেখেছে, এটি করোনাভাইরাসজনিত কিছু লক্ষণ কমাতে কার্যকর। এর মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট লিখেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য ও নিরাপদ ওষুধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফ্যাভিপিরাভিরের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানির তৈরি রেমডেসিভির নামের একটি ওষুধ করোনা চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এটি ইবোলা ভাইরাস চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি জাইলিড সায়েন্স। জাপানে ফুজির তৈরি ফ্যাভিপিরাভির ওষুধটির ব্র্যান্ড নাম অ্যাভিগান। এটি করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সুস্থ করতে পারে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে জাপান।

গতকাল রোববার ফ্যাভিপিরাভির বাজারে ছেড়েছে বিকন ফার্মা। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির জন্য সুপরিচিত বিকন ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এবাদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কার্যকারিতা পাওয়া গেলে ওষুধটির বাণিজ্যিক উৎপাদন করা যাবে। ওষুধটি মূলত ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য জাপানের ফুজি তৈরি করেছিল। পরে চীন করোনা ঠেকাতে এটি প্রয়োগ করে সুফল পায়। তাই আমরা চীন থেকে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) এনেছি।

বেক্সিমকো ফার্মাও বলছে, তারাও ওষুধ তৈরি করে মজুত রাখছে, যাতে সরকার চাইলে সরবরাহ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ফার্মার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাব্বুর রেজা বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন ওষুধ পরীক্ষা করছে। আমরা রেমডেসিভির বাদে সবগুলোই তৈরি করে মজুত করছি। যাতে যেকোনো একটি কার্যকর প্রমাণিত হলে এবং অনুমোদন দেওয়া হলে আমরা সরকারকে সরবরাহ করতে পারি।’

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে বড় বড় দেশের পাশাপাশি ছোট ছোট দেশও কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ গত শনিবার তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, মোনাশ বায়োমেডিসিন ডিসকভারি ইনস্টিটিউট ও ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, আইভারমেকটিন শরীরে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পারে। যদিও বিষয়টি একেবারেই পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

করোনার সম্ভাব্য ওষুধ তৈরির বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটির সাবেক পরিচালক গোলাম কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটি নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নতুন কোনো ওষুধের অনুমোদন দেয়। দেশে কোনো ওষুধ বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করতে হলে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তবে সুবিধার দিক হচ্ছে, এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ ওষুধের মেধাস্বত্ব কেনা ছাড়াই ওষুধ তৈরি করতে পারে।
© স্বত্ব প্রথম আলো

4 months ago - Translate

ভুয়া খবর প্রচার কোরো না!
---------------------------------
আপনি নতুন কী কী গুজব পেলেন? কী কী ছড়ালেন? আমাদের সবার হাতে আছে মোবাইল ফোন, আমাদের প্রায় সবারই আছে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার; অনবরত আসছে তথ্য, পরামর্শ, টোটকা! এই সব গুজবের কোনো কোনোটা ভয়াবহ ক্ষতিকর।

যেমন: যুক্তরাষ্ট্রে গুজব ছড়িয়েছিল, এমনকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা গুজব ছড়িয়েছিলেন, হেয়ার ড্রায়ারের বাতাস নাকে-মুখে নিলে করোনাভাইরাস মরে যাবে। এটা কেবল ভুল নয়, এটা ক্ষতিকর।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হচ্ছেন মিথ্যা তথ্য, ভু্ল ও ক্ষতিকর পরামর্শের এক বড় উৎস। তিনি প্রথমে বলেছিলেন, করোনাভাইরাস হলো হোক্স, ধাপ্পাবাজি। তারপর তিনি হাতে কাগজ নিয়ে দুটো ওষুধের নাম বললেন, এটা নিলেই কোভিড-১৯ রোগ সেরে যায়। এতই যদি সস্তা হবে, তাহলে নিউইয়র্কের হাসপাতালগুলোয় এত মানুষ মারা যাচ্ছে কেন? আর ওই ওষুধ খুবই বিপজ্জনক। ভুলভাল খেলে মানুষ মারা যায়।

ভুল তথ্য দিয়ে টুইট করে সেই টুইট ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন অমিতাভ বচ্চনও। তিনি বলেছিলেন, শাঁখ বাজালে কম্পন থেকে এবং নিশ্বাস ছাড়ার ক্ষমতা থেকে করোনাভাইরাস দমন করা যায়। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তাররা তাঁকে তুলাধোনা করতে শুরু করলেন। অমিতাভ বচ্চন নিজের টুইট প্রত্যাহার করলেন।

আমাদের দেশে প্রচলিত কতগুলো গুজব এখন ভঞ্জন করি।

১. চা খেলে বা ১৫ মিনিট পরপর গরম পানি খেলে করোনাভাইরাস মরে যায়। করোনাভাইরাস গলা থেকে পেটে চলে যাবে, অ্যাসিডে মারা যাবে।

এটা কি সত্য? না। গরম পানি খেলে করোনাভাইরাস মারা যায় না। গরম পানি বা চা পান করলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা যায় না, উপশমও হয় না।

ডা. সেজান মাহমুদ, লেখক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ফ্লোরিডা থেকে লাইভে এসে জানাচ্ছেন, চায়ের অনেক উপকারিতা আছে। চা খেতে চাইলে খান। আরাম বোধ করবেন, একটু ভালো লাগা কাজ করবে, সব ঠিক আছে। কিন্তু এটা খেলে করোনাভাইরাস ধরবে না বা ধরলে সেরে যাবে, সেটা ভাবা বোকামি হবে।

একই কথা আমি বলতে চাই অন্যান্য ফেসবুক-টোটকা সম্পর্কেও। থানকুনি পাতা, লেবু-গরম পানি, কালিজিরা, আদা-চা, যষ্টিমধু...আপনি যদি এগুলো ধুয়ে নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খান, ক্ষতি নেই। ক্ষতি শুধু এটাই যদি আপনি ভাবেন, এর দ্বারা আপনি এ–যাত্রা বেঁচে যাবেন। আপনাকে স্বাস্থ্যবিধি সব কটা মেনে নিতে হবে। এগুলো কী? এক. বাসায় থাকুন। দুই. বারবার সাবান পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ্ধতিতে হাত ধুয়ে নিন।

৩. অন্য মানুষের সঙ্গে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।

৪. হাঁচি-কাশি হলে টিস্যু পেপার অথবা কনুই ভাঁজ করে নাক–মুখ ঢাকুন।

৫. ব্যায়াম করুন।

৬. ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া করুন।

৭. ঠিকমতো ঘুমান।

৮. আপনার গলাব্যথা, শুকনো কফ ও জ্বর হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৯. সব সময় করোনার খবর দেখবেন না। সব সময় করোনার খবর পড়বেন না। ভুয়া খবর বা ফেক নিউজের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে দিয়েছে, ‘করোনা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানুন।’ এ জন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে চোখ রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রে আপনি নির্ভর করতে পারেন নিউইয়র্ক টাইমস–এর ওপরে। বাংলাদেশে আমার পরামর্শ হবে প্রথম আলো কাগজ এবং প্রথম আলো ডটকমের মতো নির্ভরযোগ্য মূলধারার গণমাধ্যমের ওপরে নির্ভর করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশ্নোত্তর ভিডিও অধিবেশনে একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি ডাকে আসা জিনিসপত্র গ্রহণ করব। উত্তর: ‘হ্যাঁ। কাগজে করোনা ছড়ায় না।’

সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না।

আর মন ভালো রাখুন। হাসুন। হাসলে রোগ প্রতিরোধক শক্তি বাড়ে। ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করলেও উপকারী হরমোন নিঃসৃত হয়।

১০. আমাদের কারও না কারও করোনাভাইরাস পজিটিভ হবে। তাই বলে কান্নাকাটি করে হুলুস্থুল বাধানোর কিছু নেই। ১০ জনে ৮ জন আপনাআপনিই সেরে যাব। ২ জনের হাসপাতালে যাওয়া লাগতে পারে।

১১. পাড়ায় করোনা রোগী পাওয়া গেছে, বিল্ডিংয়ে করোনা রোগী আছে বলে কান্নাকাটি করার কিছু নেই। এই রোগ বাতাসে ভেসে ভেসে আসে না। আপনি রোগীর ৬ ফুটের মধ্যে যাবেন না, তার ধরা বা তার থুতু–কাশি পড়া কোনো কিছু স্পর্শ করবেন না। হাত ধুয়ে নেবেন। তাহলেই আপনি ঠিক থাকবেন।

বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক পরা ভালো। যদিও স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এটার দরকার নেই। তবে বাংলাদেশ সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলছে বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক পরতে হবে। এটাও দেখা গেছে বিশ্বের যেসব জায়গায় সবাই মাস্ক পরে বাইরে বেরিয়েছে, সে জায়গাগুলোতে সংক্রমণ কম হয়েছে। তাহলে বাইরে বের যদি হতেই হয় সতর্কতার জন্য না হয় মাস্ক পরলেনই। ক্ষতি তো নেই।

আসলে তো একটা উল্টোপাল্টা সময়ের মধ্য দিয়েই আমরা যাচ্ছি। উল্টোপাল্টা, সোজা নানা নিয়মকানুন শুনতে পাচ্ছি।

এসব থেকে বাঁচার উপায় হলো বাসায় থাকুন। হাত ধোন। অসুস্থ বোধ করলে ডাক্তারকে ফোন করুন। ব্যায়াম করুন। পরিমিত খান। আর ফুর্তিতে থাকুন। হাসুন।

আপনি যদি নিজে বিশেষজ্ঞ না হন, বিশেষজ্ঞ-জ্ঞান বিতরণ করবেন না। কোনো একটা ওষুধ, দাওয়াই, টোটকা দেখলেই সেটা মেসেঞ্জারে পাঠাবেন না। অনলাইনে ফ্যাক্ট চেকার আছে। ফ্যাক্ট চেক করে নিন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্প আয়, নিম্ন আয়, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে। সবচেয়ে কার্যকর হবে আপনার নিজের গরিব আত্মীয়কে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে সাহায্য করা। কোনো সংগঠনকে কোনো অ্যাকাউন্টে বা নম্বরে টাকা পাঠানোর আগে তিনবার চেক করে নেবেন, এটা আসলেই নির্ভরযোগ্য কি না।

তো কত কত গুজবই তো শুনলাম। এবার আমরা একটা ছড়াই: বাসনকোসন মাজলে দুশ্চিন্তা কমে। দুশ্চিন্তা কম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক শক্তি বাড়ে। বাসন মাজুন, সুস্থ থাকুন।

এটা কিন্তু সত্য যে বাসন মাজলে মন ভালো থাকে। টাইম সাময়িকীর আর্টিকেল পাবেন এখানে:

https://time.com/4056280

ভালো কথা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেছেন, ৩০ মিনিটের বেশি একনাগাড়ে বসে থাকবেন না। অন্তত তিন মিনিটের বিরতি নিন। এখন তিন মিনিটের বিরতি। নিজের ঘরের মধ্যেই একটু হাঁটুন।

‘বাবা। আমার বোনের নাম প্যারিস কেন?’

‘কারণ আমরা প্যারিসে গিয়েছিলাম হানিমুনে। তারপর না সে হলো।’

‘ও বুঝতে পেরেছি।’

‘তুমি তো বুঝবেই, তুমি তো ব্রিলিয়ান্ট, কোয়ারেন্টিন।’

-আনিসুল হক

About

It's an educational page for all. Stay with us.