কালো ছায়া: পর্ব ৫

Comments · 10 Views

অাবার ২য় ম্যাসেজ টিউন বেজে উঠলো,যেন ওর হার্ট সচল করার জান্য। কিন্তু না, এটা অারো ভয়ঙ্কর ছিলো,যেন হার্টবিট বন্ধ

কালো ছায়া: পর্ব ৫

"স্যার'' শায়লা বেগমের বড় মেয়ে অানিকা, গত রাতে সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস অাটকিয়ে সুইসাইড করেছে"
ম্যাসেজটি seen করে, শুভনের হার্টবিট কয়েক সেকেন্ডের জন্য অচল হয়ে গেলো! অাবার দ্বিতীয় মেসেজ টিউন বেজে উঠলো, যেন ওর হার্ট সচল করার জান্য... কিন্তু না, এটা অারো ভয়ঙ্কর ছিলো! যেন হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাবে!
পরের মসেজটি হলোঃ
"স্যার, প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা গেছে অানিকা তিন-মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো"
এটা ভাবা যায়? কি করে, কি হয়ে গেলো? ভাবলাম কি অার হলো কি? শুভনের কান্না চলে অাসলো, হয়তো case solution করতে না পারার ক্রোধে নয়তো শায়লা বেগমের পরিবারকে ভালোবেসে। যেহেতু ঐ পরিবারের হয়ে field intelligence এ কাজ করছে so কিছুটা দ্বায় শুভনেরও!!
ঘটনার একদিন পর, Final investigation শেষে লাশ রিসিভ করে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। শায়লা বেগমের পরিবারের উপর দিয়ে বিশাল বড় ঝড় বয়ে যাচ্ছে! মানসিক যন্ত্রণা, প্রেশার ও কান্নার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে প্রতিটা সেকেন্ড!
ফুলের মত নিষ্পাপ মেয়েটা, কত হাসিখুশি থাকতো! কি এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাধ্যমে সব কিছু তছনছ হয়ে গেলো। বাবা অানোয়ার সাহেব মারা যাবার পর থেকে, মায়ের কাছেই দু'মেয়ে বড় হয়েছে। সব অভাবই দূর করে রেখেছেন, হয়তো শুধু বাবার অাদর ভালোবাসা দিতে অক্ষম ছিলেন কিন্তু ওদের কাছেতো শায়লা বেগমই বাব-মা!!
সপ্তাহখানে পরের ঘটনা, অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে জীবন যাপন এবং শান্ত হয়ে অাসছে পরিবেশ। শায়লা বেগম নিয়মিত অফিস করছেন, বাসা সামলাচ্ছেন। অার এখন রাতে একা ঘুমা না, সঙ্গী ছোট মেয়ে অনন্যা.. "বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন"।।
দ্বিতীয় কোন accident হলে, শায়লা বেগম যে মরে যাবেন এটা নিশ্চিত। স্বামীর মৃত্যুর পর, শুধু সন্তানের কথা ভেবেই ২য় বিয়ে করেন নি। কত-শত ছেলেরা বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে এসেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই! শায়লা বেগমের একটাই জবাব, "স্বামী চলে গেছেন একা অথচ রেখে গেছেন দু'জনকে"!!
অানিকার মৃত্যুর একমাস অতিবাহিত হলো, না অার কোন অঘটন ঘটেনি। মেয়েটার মৃত্যুর সাথে সাথে সব কিছুই কেমন যেন স্বাভাবিক হয়ে গেলো। এখন অার পূর্বের মতো অস্বাভাবিক ঘুম নেই, শরীরের ক্লান্তি নেই, সব কিছুই কেমন অদ্ভুত ভাবে পরিবর্তন হয়ে গেলো।
শুভনের কানেও কথাটা পৌঁছালো, কিন্তু কোনও সুরাহা বের করতে পারলেন না। এই পরিবর্তনের পেছনে কি থাকতে পারে? অানিকার life history study করে কোনও সন্দেহজনক কিছু find out করা সম্ভব হয়নি।
অানিকা যেমন রূপবতী ছিল, তেমনই গুণবতী! ভার্সিটি লাইফ থেকে শুরু করে বন্ধু বান্ধবী সবার কাছে reputation up ছিলো। কোন বাজে বন্ধু, বাজে নেশা, এমনকি কোন boy friend ছিলো না!
তবে কি করে অন্তঃসত্ত্বা হলো? শায়লা বেগম যেভাবে শিকার হয়েছেন, ঠিক সেভাবেই কি অানিকাও অাক্রান্ত? পুলিশ ও হসপিটালের Final investigation এর সমস্ত report পড়ে দেখেছে, অানিকা গত ৩/৪ মাস ধরে রেগুলার ধর্ষণ হয়ে অাসছিলো! শুধু লাস্ট ১ মাস কোন ধর্ষণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি!
এটা অারো বেশি shocked করেছিলো শুভনের টীমকে। কারণ এর মানে দাঁড়ায়, অানিকা Pregnancy হবার পরেও ২ মাস ধর্ষণ কার্য চলে, তারপর এটা dibert হয়ে শায়লা বেগমের উপর চলে যায়! হয়তো তখন অানিকা physical fit ছিলো না, নয়তো ইচ্ছে করেই সেক্স করতে চাইনি ঐ মুহূর্তে!!
তারমানে এখানে ২ টা অপশন অাছে,, এসমস্ত কিছুর পেছনে অানিকাই দায়ী নয়তো _______?________!! প্রথম চান্সটা সত্যি হলে অারো deeply think করতে হবে অার যদি chance miss হয়, তবে তীরটা কার উপর যাবে? বাসার ভেতরের কেউ নাকি বাহিরের কেউ??
বাহিরের কেউ হবার চান্স খুব কম, ভেতরের হবে এটা ৯৯% সঠিক! তবে কে সে?? জেসিয়া, no chance! শ্বশুড়, no chance! বুলবুলি, half chance! হয়তো ম্যানেজারের সাথে link অাছে so এটাকে possibility তে রাখলাম।
next শায়লা বেগম নিজেও master planner হতে পারে? কারণ এসব অনেক দেখা, নিজের অবৈধ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এমন জঘন্যতম নিকৃষ্ট কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না! so এটাও possibility এর ভেতর রাখা যায়!
তাছাড়া #সাদিয়ার দেয়া মেসেজটাও মনে পড়ে গেলো, "প, ভ কেইস" মানে... প্রেতাত্মা বা ভূত হুম সেটাই তবে এটা #প্রেম_ভালোবাসার___প্রেত_ভূত!! এটা ভেবেই শুভন এক চিলতে হাসি দিয়ে নিজেকেই নিজে বললঃ শুভন সাবাশ!
তারপর যেন বাতাসকে বলে দিলোঃ শায়লা বেগম তোমার দিন শেষ, এবার শুভন অাসছে তোমাকে caught করতে!!
দ্রুত investigation চালাচ্ছেন শুভন সাহেব। অধিক এজেন্ট নিয়োগ দিলেন। চতুর্দিকে মাকড়সার জালের মত ফাঁদ পেতে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে দিলো,, কিন্তি দিনশেষে যেন বৃত্তের মধ্যে ঘোরপাক খাচ্ছেন!
হুট করেই শুভন জানতে পারলেন, শায়লা বেগমের বাসাতে কি একটা ঝামেলা চলছে! কুইক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু ওদিক থেকে শায়লা বেগম কোন সদুত্তর দিলেন না। তখন সন্দেহের তীরটা অারো অধিক গতিতে ওনার দিকে ঠেলে নিয়ে গেলো।।
তবে গোয়েন্দা চোখ বা তৃতীয় সূত্রে জানা গেলো, অনন্যা ওর অাম্মুর সাথে রাতে ঘুমানো নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়! অার এটা নিয়েই মা মেয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে, অনন্য রেগে গিয়ে বলেঃ
-- অাম্মু, অামি তোমার সাথে রাতে ঘুমাবো ন!
---- (অবাক হয়ে) কেন অাম্মু?
-- কারণ অামি বড় হয়ে গেছি, তোমার সাথে ঘুমাতে লজ্জা করে।
---- মেয়ের কথা শুনছ? মায়ের কাছে অাবার বড় কি??
-- না অাম্মু! সেটা নয়, অামারো কিছু privacy থাকতে পারে! তাছাড়া অামার সব বন্ধুরাই অালাদা ঘুমায়!
---- তোরাও'তো এতদিন...
এটুকু বলেই, শায়লা বেগম কান্না করে দিলেন....
অনন্যা অার কথা বাড়ায়নি, হয়তো মায়ের চোখের পানি, নয়তো বোনের স্মরণে, অাবার এমনও হতে পারে.. নিজের সেফটির জন্যেই চুপ হয়ে, অাজকের রাতে অাম্মুর সাথে ঘুমায়!!
তারপর হয়তো নতুন কিছু ঘটলে অাবার জানা যাবে, এখানেও কিছু লুকিয়ে অাছে কিনা?? যেদিকে চোখ যায় শুধু সন্দেহ অার সন্দেহ.........
শুভ অারো ভাবছে, পুলিশও চেষ্টা করেছিলো case টা solution করতে! পরে ব্যর্থ হয়ে অন্য অাট/দশটা কেইসের মতো ফাইলের নীচে চাপা পড়ে যায়। যেমন চাপা পড়েছে বিগত সময়ের কেইস গুলি, তারমধ্য উল্লেখযোগ্য....
হুট করেই শুভনের মাথাতে "ঐশি হত্যা মামলা" বিষয়ে সবুজ বাতি জ্বলে উঠে! বাস Automatically সব clear হয়ে গেলো, এক সেকেন্ডের ভেতরে শায়লা বেগমের case theme ready হয়ে গেলো!
অনন্যা একটু খাটো ও মুটকি, চেহেরাও বেঢপ। হয়তো বাবার ধাঁচ ওর চেহেরাতে, নয়তো অন্য কারো হবে কিন্তু to the point হলো.. এটাই ওর depression. রাতে নিশ্চয়ই ঘুম কম হয়, তাইতো সব সময়ই চোখ লাল দেখায়।
অার সে সূত্রে এগোলে, অনন্যার মেজাজটাও খিটমিটে হবে অার বন্ধুর সংখ্যা নেই বললেই চলে! যেমন পদ্মফুলে গোবর, যদিও কথাটা নিজের কানেও শুনতে খারাপ লাগলো!
পক্ষান্তরে অানিকা যথেষ্ট সুন্দরী ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলো, ওর body ও face structure শায়লা বেগমের ধাঁচে অার বন্ধুদের মহলে ওর ব্যাপক ডিমান্ড ও কদর ছিলো। তাই সব সময়ই হৈ হুল্লোড় ও অাড্ডাতে মেতে থাকতো....
শুভনের চোখ খুশিতে চিক করে উঠলো, অার নিজেও খুশিতে লাফিয়ে উঠে বললঃ #ইউরেকা.......
#চলবেই_